দিরাইয়ে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিএনপির গণসমাবেশ, সিন্ডিকেট নিয়ে তীব্র অভিযোগ


Sylheter samachar24 প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৯, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ন /
দিরাইয়ে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিএনপির গণসমাবেশ, সিন্ডিকেট নিয়ে তীব্র অভিযোগ

দিরাইয়ে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিএনপির গণসমাবেশ, সিন্ডিকেট নিয়ে তীব্র অভিযোগ

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ-

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিএনপির গণসমাবেশ ও বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) দিরাই পৌরসভার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক সমর্থিত নেতাকর্মীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
এর আগে গত ৬ আগস্ট সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বিএনপির নেতাকর্মীরা গণসমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই গণসমাবেশ ও বিজয় র‍্যালি সম্পন্ন হয়।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ ভাগ-বাটোয়ারা
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে দিরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, দলের পদধারী নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি প্রতিনিধি। তাদের বাদ দিয়ে পিএস-এপিএস কিংবা কোনো ব্যক্তিগত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দল পরিচালনা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতা ও অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ওই সিন্ডিকেটে অতীতে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন, এমন ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকের অভিযোগ, ওই সিন্ডিকেট সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা, ঈদ অনুদানসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
চোর তাড়িয়ে এখন ডাকাত লালন-পালন করেন,
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একসময় যারা চোরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তারা এখন ডাকাত লালন-পালন করছেন।
বক্তাদের দাবি, নির্বাচনের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দলের বিভিন্ন বলয়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে বিজয়ী করতে কাজ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বাধার কারণে সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রত্যাশিত যোগাযোগ রাখতে পারেননি এবং তাদের ন্যূনতম ধন্যবাদও দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
দিরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রতি রঞ্জন দাস, জেলা বিএনপির সদস্য অশোক রায়, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী, সদস্য শোয়েব হাসান, অ্যাডভোকেট ওবায়দুর চৌধুরী মিশু, কামরুল ইসলাম, হাফিজ উদ্দিন, মাসুক মিয়াসহ অনেকে।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মিলাদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী সাজু, সদস্য সচিব তানভীর চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা মাহমুদুল হাসান সাগর এবং উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক সৈদুর রহমান তালুকদার।
অভিযোগের বিষয়ে এমপির বক্তব্য পাওয়া যায়নি
সমাবেশে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কিংবা তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে ১৪৪ ধারা জারির পরও বিএনপির এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়া এবং সমাবেশ থেকে সংসদ সদস্যকে ঘিরে সরকারি বরাদ্দ ও অনুদান নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠায় দিরাইয়ের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।