বীরমুক্তিযোদ্ধা জাসদনেতা চৌধুরী আজাদ পারভেজ’র কিছু স্মৃতি, কিছু কথা——আমিনুল ইসলাম আমিন


Sylheter samachar24 প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৪, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ন /
বীরমুক্তিযোদ্ধা জাসদনেতা চৌধুরী আজাদ পারভেজ’র কিছু স্মৃতি, কিছু কথা——আমিনুল ইসলাম আমিন

বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাসদ নেতা চৌধুরী আজাদ পারভেজ’র কিছু স্মৃতি ও কিছু কথা নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন।

এ প্রজন্মের অনেকেই তাঁর সম্পর্কে তেমন জানা আছে বলে আমার মনে হয় না, তাই উনার সম্পর্কে কিছু বলার চেষ্টা করছি।

চৌধুরী আজাদ পারভেজ দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৯ সালে। তাঁর পিতা ডাঃ আব্দুল মছব্বির চৌধুরী ও মাতা মোছাঃ রহিমা বেগম। উনাদের ৬ সন্তানের মধ্যে চৌধুরী আজাদ পারভেজ দ্বিতীয়, এবং পরপর তিনবার উপজেলা পরিষদের মহিলা বাইস নির্বাচিত হিসাবে নির্বাচিত ছবি চৌধুরী তৃতীয়।

চৌধুরী আজাদ পারভেজ ছোটবেলা থেকেই চৌকস এবং মেধাবী ছিলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বাংলার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো, তখন তিনি দেশ মাতৃকার টানে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এবং দেশকে স্বাধীন করে বীরের বেশে বাড়ি ফিরেন।

১৯৭২ সালের ৩১ শে অক্টোবর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ প্রতিষ্ঠিত হলে, তিনি জাসদ রাজনীতিতে যোগ দেন।

চৌধুরী আজাদ পারভেজ এর কালো অধ্যায়।
————————————————————–
তিনি তৎকালীন সময়ে জগন্নাথপুর উপজেলার একটি স্কুলে পড়ালেখা করতেন। তখন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল উনাকে। যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ কয়েকটি বৎসর কারা ভোগ করতে হয়েছে।

জেল হাজত থেকে বাহির হয়ে তিনি চলে গেলেন সুদূর স্পেনে, সেখানেও তিনি বাঙালি কমিউনিটিদের মধ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

তার কিছুদিন পর একাধিকবার লন্ডন ঢোকার চেষ্টা করেছেন, বারবারই হিত্র বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসতে হয়েছে স্পেনে। সর্বশেষ আবার যখন লন্ডন ঢোকার জন্য স্পেন থেকে বিমানে হিত্র বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছলেন,তখন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ওনাকে এরেস্ট করলো এবং তিন মাস কারাভোগ করে দেশে ফিরে আসেন।

দেশে এসেই আবারও জাসদ রাজনীতিতে নিজেকে সংযুক্ত করেন। ৯০ এ স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি দিরাই উপজেলা জাসদের সহ-সভাপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

তারপরে তিনি ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আপামর জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে, ভাটিপড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু কিছু কুঠিল ষড়যন্ত্রের কাছে মাত্র কয়েকটি ভোটে তিনি পরাজিত হন। তবুও তিনি থেমে থাকেননি, মানুষের সুখ,দুঃখের সাথী হয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে চলছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা প্যনোরমা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আমি তখন আমার নেতা হাসানুল হক ইনু ভাইকে টেলিফোনে আজাদ ভাইয়ের অসুস্থতার খবর জানাই, তিনি তৎক্ষণাৎ ছুটে যান প্যনোরমা হাসপাতালে। উনার খোঁজখবর নেন এবং উনার ছোট বোন ছবি চৌধুরীট সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

এখানে আরো একজনের নাম উল্লেখ না করলেই নয়, সেটি হল চৌধুরী আজাদ পারভেজ অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা যাওয়ার পরে যে লোকটি সার্বক্ষণিক উনার পাশে থেকে উনাকে সাহায্য সহযোগিতা করেছে, তাঁর নামটি না বললে এই গল্পের অপূর্ণতা রয়ে যাবে। সে আমাদেরই এলাকার কৃতি সন্তান,আমার প্রিয় ছোট ভাই,বিশিষ্ট সাংবাদিক নেসারুল হক খোকন।

আজাদ ভাই যে কয়দিন হাসপাতালে ছিলেন ঠিক ততদিনই ইনু ভাই, নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছেন।

পরবর্তীতে সাবেক সাংসদ এবং মন্ত্রী বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাবেক সাংসদ, এবং বর্তমান আমাদের সাংসদ জনাব নাসির উদ্দিন চৌধুরী, জননেতা সুজাত আহমেদ চৌধুরী সহ অসংখ্য মানুষ উনাকে দেখতে যান হাসপাতালে।

উনি মরণব্যধি লিবার সিরোসিস রোগে ভুগছিলেন, তাই ডাক্তারের পরামর্শ মতে তাঁকে বাড়ি নিয়ে আসা হলো,তাঁকে দেখার জন্য দিরাই থেকে আমরা সহ অসংখ্য মানুষ উনার বাড়িতে যাই। তখন তিনি প্রায় মুমূর্ষ অবস্থায়। এবং দুয়েকদিনের মধ্যেই ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০০৬ ইং মৃত্যুবরণ করেন।

এর কিছুদিন পরে দিরাই উপজেলা শাখা, চৌধুরী আজাদ পারভেজ স্মরণে একটি নাগরিক শোকসভার আয়োজন করে, দিরাই থানা রোডস্থ রেন্টিতলা প্রাঙ্গনে। প্রধান অতিথি তৎকালীন সাংসদ বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কে করা হয়েছিলো, এবং বিশেষ অতিথি জনাব নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে করা হয়েছিলো।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আমাদের অতিথি হয়ে আমাদের মঞ্চে আসেননি। কিন্তু জননেতা জনাব নাসির উদ্দিন চৌধুরী ঠিকই যথাসময়ে আমাদের মঞ্চে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। আমরাও তৎক্ষণাৎ উনাকে প্রধান অতিথি হিসেবে বরণ করি।

দিরাই -শাল্লা এই ভাটি অঞ্চল রাজনীতির একটি উর্বর ভূমি। এখানে জন্ম নিয়েছেন বাবু অক্ষয় মিনিস্টার, আব্দুস সামাদ আজাদ, বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, গোলাম জিলানী চৌধুরী,নাসির উদ্দিন চৌধুরী, গুলজার আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল লতিফ সরদার,সুজাত আহমেদ চৌধুরী,জনাব আব্দুল কুদ্দুস, আলতাব উদ্দিন মাস্টার, আব্দুস শহীদ চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ সরদার সহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে অনেকই আজ আমাদের মাঝে বেঁচে নেই।
কিন্তু ক’জনের শোক সভা আমরা পালন করতে পেরেছি ?? এই প্রশ্ন রেখে গেলাম আমি আজ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে।

আমিনুল ইসলাম আমিন
সাধারণ সম্পাদক, জাসদ,
দিরাই উপজেলা শাখা।
তারিখ – ৩/৮/২০২৬ ইং।