“আব্দুল লতিফ সরদার”একটি আলোকিত নাম,সবার হৃদয়ে থাকবেন আজীবন———-আমিনুল ইসলাম


Sylheter samachar24 প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন /
“আব্দুল লতিফ সরদার”একটি আলোকিত নাম,সবার হৃদয়ে থাকবেন আজীবন———-আমিনুল ইসলাম

“আব্দুল লতিফ সরদার”একটি আলোকিত নাম,সবার হৃদয়ে থাকবেন আজীবন———-আমীনূল ইসলাম

ষাটের দশকে উত্তাল রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনীতির সূচনা। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর রক্তচক্ষুকে ভেদ করে ছাত্র আন্দোলনে রাজনৈতিক চেতনার সাথে নিজেকে সংযুক্ত করেনছাত্র ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে। ছাত্র রাজনীতিতে একজন নিষ্ঠাবান কর্মি ও সংগঠক হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের কোষাধক্ষ্য নির্বাচিত হন।

গণতন্ত্র, সামাজিক,ন্যায়বিচার এবং মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করার ব্রত নিয়ে কাজ করে যান।

৬ দফা আন্দোলন,৬৯ গণঅভ্যুত্থান, স্বাধিকার আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, এসবই দেশাত্মবোধদেরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কখনো আদর্শ চূত হননি। আদর্শের প্রতি ছিল অগাধ বিশ্বাস ও সম্মান।

তিনি কখনো রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য কোথাও মাথা নত করেননি। ( এখানে উল্লেখ্য যে উনার সাথেরই দুএকজন রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য ডিগবাজি খেয়েছেন)
এই সংগ্রামী চেতনার জন্য একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তবে এই বাধা তাঁর সংগ্রামী মনোভাবকে আরো বেগবান করে তুলে

১৯৬৮ সালে তিনি সিলেট জেলা বারের আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। এবং তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এ যোগ দেন এবং সিলেট জেলা ন্যাপ এর কোষাধক্ষ্যের দায়িত্ব ও পরবর্তীতে যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯২ সালের ২৬ শে জুলাই সিলেট জেলা আদালতে দায়িত্ব পালন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৩ বছর।

আব্দুল লতিফ সরদার সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন আব্দুল গনি সরদার এবং মাতা হালিমা খাতুন।

★এবার আসি আব্দুল লতিফ সরদার সংশ্লিষ্ট আরো কিছু প্রসঙ্গে *==========================

গতকাল সন্ধ্যায়, দিরাইয়ে থানা রোডস্থ জালাল সিটি সেন্টারে, বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব জামিল চৌধুরীর সাথে উনার অফিসে আমরা কয়েকজন ছিলাম বসা। এরমধ্যে একজন এসে একটি বই উনাকে দিয়ে গেলো বইটির নাম “আব্দুল লতিফ সরদার স্মারকগ্রন্থ ” আলোকের অভিযাত্রী”
বইটির প্রকাশকাল জুন,২০২৬ ইং।

শ্রদ্ধেয় আব্দুল লতিফ সরদার যেহেতু বাম রাজনীতিতে আমাদের জন্য একজন আদর্শিক মানুষ ছিলেন, সে হিসাবে এই বইটি কাছে পেয়েই বইটির পাতা খুলে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলাম।

জনাব জামিল চৌধুরী বইটি হাতে পেয়েই উনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বইটির পাতা না খুলেই উনার সম্পর্কে বিস্তারিত আমাদেরকে বলা শুরু করলেন। উনার অসুস্থতা এবং উনার স্ত্রীর অসুস্থতা, সবকিছু একে একে বর্ণনা করলেন। তখন উনাদের পাশে একমাত্র জামিল চৌধুরী ছিলেন, উনি বললেন সরদার সাহেব মৃত্যুর দুদিন আগে উনার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পরলেন, তখন তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উনাকে নিয়ে যান এবং ভর্তি করেন। আবার সন্ধ্যায় বাসায় নিয়ে আসেন, পরের দিন আবার সকাল বেলা উনাকে হাসপাতাল নিয়ে যান। যখন জামিল চৌধুরী সরদার সাহেবের স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ খবর এলো, সরদার সাহেব কোর্টে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গিয়েছেন। এই সংবাদ শুনে উনার স্ত্রী হাসপাতালেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারপর জ্ঞান ফিরলে উনাকে জামিল চৌধুরী উনার বাসায় নিয়ে যান। জামিল চৌধুরী সরদার সাহেবের দাফন কাফন সহ সব কার্যক্রম উনার পরিবারের পাশে থেকে করে গেছেন।

উনি আক্ষেপ করে বললেন ওনাদের জন্য এত কিছু করলাম, কিন্তু কৃতজ্ঞতায় অনেকে নামই দেখলাম কিন্তু আমার নামটি পেলাম না। যাক এটাই হয়তো নিয়ম। সরদার সাহেবের স্ত্রী এখনো জীবিত আছেন উনাকে জিজ্ঞেস করলেই বিস্তারিত জানতে পারবেন

মহান আল্লাহ যেনোআব্দুল লতিফ সরদার সাহেবকে বেহেস্ত নসিব করেন, আমীন।

আমিনুল ইসলাম আমিন
সাধারণ সম্পাদক
জাসদ, দিরাই উপজেলা শাখা।
১লা আগষ্ট, ২০২৬ ইং।