
মোহাম্মদ হারুন মিয়া,যুক্তরাজ্যঃ-
ভাটি বাংলা বলে খ্যাত সুনামগন্জ জেলাধীন দিরাই উপজেলার মাটিয়াপুর গ্রামের কৃতি সন্তান(অবঃ)মেজর ইকবাল হোসাইন চৌধুরী ওরফে মেজর ইকবাল ২১ অক্টোবর ১৯৪৪ সালে সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত আবুল হোসেন চৌধুরী (মুক্তার) ও মাতা মৃত করিমুন নেছা খাতুন চৌধুরী।
মেজর (অব.) ইকবাল হোসাইন চৌধুরী শিক্ষা জীবন শেষ করে ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমিতে কমিশন প্রাপ্ত হয়ে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে ভারতে ও পরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন।
১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে সকল অফিসার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। খন্দকার মোশতাকের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে ষ্টেনগান নিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেয় সরকার।
১৯৭৭ সালে সুনামগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জাতীয় পার্টি গঠন করলে তিনিও যোগদেন। আমৃত্যু তিনি সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সংগঠক এবং জেলা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। উনি ১৯৭৯ সালে বি এন পি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ (বিশ্বম্ভরপুর-সদর) আসনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই সময়ে আলাদা মেয়াদে তিনি খাদ্যমন্ত্রী , জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং ডাক, তার ও টেলিযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বপালন করেন।
উত্তর সুরমার সুরমা ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামে মেজর ইকবালের বাংলো বাড়ি অবস্থিত। তিনি আমৃত্যু উত্তর সুরমার একজন আস্থাভাজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন।
ইকবাল হোসাইন চৌধুরী ২০ জুন ২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :